Sunday, August 18, 2019

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করবেন যেভাবে


দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্য সকলেরই পাসপোর্ট থাকা উচিত। দেশের বাইরে যেতে হলে আপনার পাসপোর্ট তো লাগবেই। আমি অনেকদিন ধরেই করবো করবো করেও পাসপোর্টটা করা হয়ে উঠছিলো না। ছুটি পেলাম কিছুদিনের আর তাই আলসেমি কাটিয়ে পাসপোর্ট করার প্রসেস শুরু করে দিলাম।

এখন পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া আগের থেকে অনেক সহজ হয়েছে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করা যায় বলে। সহজ হলেও পাসপোর্ট অফিসে আমার বেশ দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছিলো। প্রথমদিন বিশাল লাইনে দাড়িয়ে শেষে গিয়ে আমাকে বলা হলো ফর্ম দুই পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করে আনার জন্য। ফটোকপি দোকানে দৌড়ে দুই পৃষ্ঠায় করে এনে দেখি জাতীয় পরিচয়পত্রের অরিজিনাল কপি আনা হয়নি। পরদিন ভোরে গিয়ে আবার লাইন ধরলাম। দুপুরের মধ্যে সব কাজ করে বাসায় এলাম।


Thursday, April 12, 2018

চিকেন পক্সের সাথে চিকেনের সম্পর্ক


বেশ কিছুদিন বাসায় সন্ধ্যা হলেই স্ন্যাকস হিসেবে চিকেন খাচ্ছিলাম। আম্মু কোথা থেকে দেশী মুরগীর চিকেন ফ্রাই এনেছিলো। পরদিন আবার আন্টি বাসায় এসেছিলো সিপির স্পাইসি চিকেন নিয়ে। আমারও চিকেন বেশ পছন্দ। তাই ভালোই খাচ্ছিলাম প্রতিদিন চিকেন ফ্রাই। চিকেনের সাথে চিকেন পক্সের কি সম্পর্ক আছে তা জানা নেই। তবে এভাবে হঠাৎ করে যে রোগটা চলে আসবে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।

Tuesday, January 16, 2018

খুব শীতে, নিঝুম দ্বীপে (পর্ব – ৩)




৫ম দিন (৬ জানুয়ারী ২০১৮)

পর্ব - ২ পড়ুন এখানে

আজ সকাল ১০টায় নাস্তা করেই আমরা একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে নোয়াখলি ঘুরতে বেড়িয়ে পড়ি। হাইওয়েতে নামতেই দেখতে পেলাম কাদের যেন মিছিলো হচ্ছে তাই রাস্তায় অনেক জ্যাম। ড্রাইভার হাইওয়ের পাশ দিয়ে শর্টকাটে গ্রামের আঁকাবাঁকা সুন্দর রাস্তা দিয়ে যেতে থাকলো। আমরা পৌছালাম বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন জাদুঘরে। ছোট একটি জাদুঘর। তার পাশেই একটি লাইব্রেরী রয়েছে। তবে আফসোস আজ শনিবার থাকায় জাদুঘরটি বন্ধ। তাই জানালা দিয়ে একটু উঁকি দিয়ে ভেতরটা দেখে আর বাইরে কিছু সেলফি তুলেই চলে আসতে হলো। 

খুব শীতে, নিঝুম দ্বীপে (পর্ব – ২)



৩য় দিন (৪ জানুয়ারী ২০১৮)

পর্ব - ১ পড়ুন এখানে

আজ একটু আয়েশ করে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমালাম। শীতের সকালের ঘুমের থেকে আরামদায়ক আর কিছু হতে পারে না। এরপর নাস্তা করে আমরা ট্রলারে করে মনপুরা দ্বীপে রওনা দিলাম। নিঝুম দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত মনপুরা দ্বীপ। এটি বেশ বড় একটি দ্বীপ। মনপুরা দ্বীপে পৌছাতে দুপুর ২.৩০ বেজে গেলো। সেখানে গিয়ে আমরা একটি ছোট দোকানে খাওয়াদাওয়া করলাম। তিনজন বাইক ভাড়া করে নিয়ে পুরো দ্বীপ ঘুরতে বের হলো। আমরা কয়েকজন মনপুরা দ্বীপের বীচের খোজে গেলাম।


খুব শীতে, নিঝুম দ্বীপে (পর্ব – ১)



Hatiya Moktaria Ghat - Photo from Travellers of Bangkadesh (TOB)


আরো একটি টানা ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রজেক্টে ভরপুর ব্যস্ত সেমিস্টার শেষ হলো। বেশ কিছুদিন ছুটি পেলাম। ভাবলাম ক’দিন ঘরে বসেই মুভি দেখে, গল্পের বই পড়ে আর আলসেমী করে কাটিয়ে দিবো। কিন্তু মন যে আর এই শহরেই থাকলে চাইলো না। তাই এবারে প্ল্যান করা হলো নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার। ভার্সিটির তিন বন্ধু আমি, জুবায়ের আর সজীব মিলে খুলেছিলাম একটি ফেসবুক গ্রুপ NSU Adventure Club নামের। যারা সেমিস্টার ব্রেকে ট্যুর দিতে চায় তাদের অনেকের মাঝেই একটি কমন সমস্যা দেখা দেয় টাইমিং নিয়ে। কারো ফ্রেন্ড সার্কেল হয়তোবা অন্য ভার্সিটিতে পড়ে তাই সময় মিলে না। আবার অনেক সময় একটি ট্যুরে দুই-তিন জন মানুষ কম গেলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় হতাশ হয়ে ট্যুরই ক্যান্সেল করে দিতে হয়। এই সমস্যা সমাধানেই এই গ্রুপটি খোলা। 

Friday, September 22, 2017

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ৪)

বান্দরবানে শেষ দিন (১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)

সকালে দাদা সবাইকে ডেকে তুললো। রেমাক্রি খালের পানি নাকি অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমাদের দ্রুত যেতে হবে। কাল সারা রাত প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে বোটে উঠে পড়লাম। আগের মতই তিনটি বোট। যাত্রা শুরু করলো বোট তিনটি। আমরা সবাই লাইফজ্যাকেট পড়ে ভালোভাবে বেধে রাখলাম শরীরের সাথে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে এখনো।
শুরু হলো বোটে করে থানচি যাত্রা। পানির স্রোত প্রচন্ড। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সাঙ্গু নদী দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বোট তিনটি। ইঞ্জিন চালু না করলেও পানির স্রোত বোট অটোমেটিক টেনে নিয়ে যাবে। আমরা বড় পাথর দেখলাম। পাথরের অর্ধেক ডুবে গিয়েছে। পথে যেতে হেডম্যান পাড়া দেখলাম পাহাড়ের উপরে। রূপকথার কাহিনীর গ্রামের মত মনে হচ্ছিলো সেটাকে।
মেঘের রাজ্যে
থানচি এসে পৌছালাম সকাল ১১ টায়। এটাই সেই জায়গা যেখান থেকে ৩ দিন আগে যাত্রা শুরু করেছিলাম। গাইডদের অফিসে ব্যাগ রেখে থানচি বাজার দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। আজকে হাট বসেছে। পাহাড়ি ব্যবসায়ীরা নানান জিনিস সাজিয়ে বসে আছে বাজারের রাস্তায়। এক জায়গায় দেখলাম মুন্ডি বিক্রি করছে এক বুড়ো মহিলা। আমরা মুন্ডি খেলাম। মুন্ডি হলো নুডুলসের মত একটি আদিবাসী খাবার। এটিতে চিকন নুডুলস দেয় ও আরো কিছু নাম না জানা মসলা দেয়। সাথে মরিচের গুড়া থাকে। এটিতে তেল হিসেবে নাপ্পি ব্যবহার করা হয়। নাপ্পি শুটকি মাছ থেকে পাওয়া এক ধরনের সবুজ তেল। মুন্ডির টেস্ট ছিলো অসাধারণ। বান্দরবান শহরে গেলে আমি মুন্ডি খাই। কিন্তু থানচির এই মুন্ডি আমার কাছে বেস্ট মনে হয়েছে।
থানচি বাজার

বান্দরবানের আজিব শশা


মুন্ডি

আরো কিছুক্ষন বাজারে ঘুরে আমরা অফিসে খেতে বসলাম। মাত্র ৪০ টাকায় ফ্রাইড রাইস ও চিকেন পাওয়া যায়। ফ্রাইড রাইস খেয়ে আমরা লেমন জ্যুস নিয়ে নদীর পাশে বসলাম। সেখানে কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম ও ছবি তুললামএখানে একটি ছোট ট্যুরিস্ট স্পটের মত বানানো হচ্ছে। পাশেই ব্রীজ। সেখানে চান্দের গাড়ি আছে। আমরা ৫০০০ টাকায় চান্দের গাড়ি ঠিক করলাম বান্দরবান শহর পর্যন্ত। দুপুর ১২ টায় চান্দের গাড়িতে উঠে পড়লাম।
থানচিতে আমরা
চান্দের গাড়িতে চড়ে এবার সবেচেয় মজা পেলাম। আমরা মেঘের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। সাদা মেঘ এসে আমাদের চোখে-মুখে লাগছে। মাঝে মাঝে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। যেতে পথে আমরা নীলগিরিতে থামলাম। সেখানে কিছুক্ষন ঘুরে দেখলাম। তারপর আবার পাহাড়ি আকাবাকা পথে গাড়ি চলতে শুরু করলো। বিকালে পৌছালাম স্বর্নমন্দিরে। দুইজনের পড়নে হাফপ্যান্ট থাকায় তাদের লুঙি পড়িয়ে স্বর্নমন্দিরে ঢোকার পারমিশন দেওয়া হলো। নীলগিরিতে ঢুকতে ৫০ টাকার টিকেট ও স্বর্নমন্দিরে ঢুকতে ৩০ টাকার টিকেট কাটতে হয়। সূর্যাস্ত দেখলাম স্বর্নমন্দিরের উপর থেকে। 
নীলগিরি

তারপর আবার চান্দের গাড়িতে উঠে পড়লাম। দ্রুত যেতে হবে রাতের বাসের টিকেট কাটার জন্য। আসলে যেতে ইচ্ছে করছে না ঢাকায় একদমই। আমি যদি পারতাম তাহলে আজীবন পাহাড়েই থেকে যেতাম।
স্বর্ণমন্দির
হানিফ বাসের টিকেট কাটলাম। রাত ৯.২০ এ গাড়ি ছাড়বে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে। নন-এসি বাস ভাড়া ৬২০ টাকাই। তবে ঢাকা-বান্দরবান রুটে আমার মতে সবচেয়ে ভালো চালায় শ্যামলী বাস আর ইউনিক বাসের সিটগুলোতে বসে আরাম পাওয়া যায় বেশি। হানিফ যেই রুটেই চলুক না কেন তারা জোড়ে চালায় এবং ঘুমানো যায় না বাসে।

টিকেট কাটার ঝামেলা শেষ করে আমরা রাতের খাবার খেতে মধ্যমপাড়ায় গেলাম। আমি আগে বান্দরবান এলেই এখানে আসতাম খাবার জন্য। মধ্যমপাড়ায় মুন্ডি পাওয়া যায় ভালো আর কিছু আদিবাসী খাবারও রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড থেকে এখানে আসতে টমটমে ভাড়া নিবে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা। সময় থাকলে হেটেই আসা যাওয়া করা যায়।

আমরা টমটমে করে মধ্যমপাড়ার তোজাহ রেস্টুরেন্টে গেলাম। মেন্যু দেখেই তো সবার চক্ষু-চড়গগাছ! এখানে আছে গুইসাপ, শুকর, ব্যাঙ, শামুকসহ আরো আজব সব খাবার। কে কোনটা খাবে ঠিক করতে পারলো না। শেষে ঠিক হলো সব আইটেমই একটা করে নেওয়া হবে। যার যেটা ইচ্ছা সেটা খাবে। আমি ভাত খেলাম মুরগী চাটনী, তোজাহ, বাঁশকুড়ুল আর ব্যাঙ দিয়েব্যাঙের টেস্ট অস্থির ছিলো। এটা না মাছ আবার না মুরগী। আমি এর আগে এখানে এসে গুইসাপ খেয়েছিলাম। টেস্ট ভালো ছিলোনা তাই আর খেলাম না। তবে টেবিলে শামুকের তরকারী নেওয়াটা ঠিক হয়নি। সেটা দেখে আমি ঘেন্নায় আর ভালো করে খেতে পারলাম না।
পাহাড়ি সবজি তোজাহ
রাতের খাবার খেয়ে সবাই গেলাম পাশের গলিতে মুন্ডি খেতে। একজন দিদি আমাদের মুন্ডি বানিয়ে দিলো। এখানের মুন্ডির নুডুলসগুলো বেশি মোটা। খেতে মজা আছে কিন্তু থানচির মুন্ডি বেশি মজা ছিলো। সেখানে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে মধ্যমপাড়া ঘুরে দেখলাম। তারপর ৯টায় আবার বাসের কাউন্টারে চলে গেলাম।
মুন্ডি বানানো হচ্ছে

৯.৩০ এ হানিফ বাস এলো। বাসটি একদম নতুন ছিলো। এরকম নতুন বাসকে নাকি প্যাকেট বাস বলা হয়। রাতে বাসে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুম হলো না। রাতে বাস ব্রেক দিলে সেখানে চা খেলাম। পেটের অবস্থা খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না।

ঢাকায় পৌছালাম (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)

ভোর ৬.৩০ এ বাস ঢাকায় পৌছালো। একেকজন একেক জায়গায় নেমে গেলো। আমি আর আরো তিনজন নামলাম কলাবাগানে। বিশ্বাস হচ্ছেনা শেষ পর্যন্ত এই ট্যুর শেষ হয়েছে আর আমরা এখন ঢাকায়। আবার সেই রুটিনমাফিক ব্যস্ত জীবনের শুরু হতে যাচ্ছে।
ধন্যবাদ আবার আসবেন
এই বান্দরবান ট্যুরটি সারাজীবন মনে থাকবে। আমাদের গাইড সিমিয়ান দাদা যে পরিমাণ সাহায্য করেছে আর কষ্ট করেছে তা বলার মত নয়। দাদাকে খুব মিস করবো। পাহাড়ের সহজ-সরল ভালো মানুষগুলোকে মিস করবো। এই ট্যুর থেকে আমি অনেক কিছু শিখলাম। তার মধ্যে এক নাম্বার হচ্ছে টিমওয়ার্ক। টিমের সবাই অনেক হেল্পফুল ছিলো। একজনের বিপদে আরেকজন সাহায্য করেছে, সান্তনা দিয়েছে। এছাড়াও রেসপন্সিবিলিটি নেওয়া, অনুকুল পরিবেশে সার্ভাইভ করা শিখলাম। আমাদের ভাগ্য ভালো ছিলো। এসময় বৃষ্টি থাকার কথা হলেও আমাদের ট্রেকিংয়ের সময় বৃষ্টি আসেনি। সবাই যে সুস্থ্যভাবে ফিরতে পেরেছি এজন্য ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে। বান্দরবানে আবার যাবো আশা করি। আরো অনেক দেখা বাকি আছে।  

এই ট্যুর নিয়ে লেখা অন্যান্য ব্লগপোস্টগুলোঃ

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ১)

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ২)

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ৩)


পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ৪)

পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে, স্বর্গের খোঁজ (পার্ট – ৩)

নাফাখুমের পথে (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)

থুইসাপাড়া থেকে নাফাখুমের পথে যাত্রা শুরু করলাম সকাল ৭টায়। সিমিয়ান দাদা বললেন এ পথে আর তেমন কোন পাহাড় নেই। শুধু ঝিরিপথ আর খাল। আমি খাল নিয়ে ভয়ে আছি। কেননা কাল দুপুরে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। খালের পানি বেড়ে গেলে পার হতে সমস্যা। তবে ভরসার কথা হলো আমাদের সাথে রশি, লাইফজ্যাকেট ও আরো দুইজন গাইড রয়েছে।

Hi ! I'm Raad. And this my personal blog. Welcome to my blog.